দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া ক্রিস্টা পাইকের জ্ঞান ফিরেছে। তিনি এখন কথা বলতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। তবে তার দুই হাতে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির একটি কারাগারে পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাকে পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেওয়া হয়। প্রথম ডোজের পর প্রায় এক ঘণ্টা তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও তার মৃত্যু না হওয়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভেন্টিলেটরে রাখা হয়।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বর্তমানে পাইকের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো প্রক্রিয়া থেকে বেঁচে যাওয়া তিনিই একমাত্র পরিচিত ব্যক্তি। তারা টেনেসির গভর্নরের কাছে তার মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে প্যারোলের সুযোগ ছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন করেছেন।
পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটিকে ‘নিষ্ঠুর ও কষ্টদায়ক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, পাইকের বাঁ হাতে সূঁচ ঢোকানোর সাতটি চিহ্ন রয়েছে। এর আগে আইনজীবীরা সতর্ক করেছিলেন, তার শিরা খুঁজে পেতে কর্মকর্তাদের সমস্যা হতে পারে।
ঘটনার পর টেনেসির কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা পদত্যাগ করেছেন। আইনজীবীদের দাবি, দুটি অঙ্গরাজ্যে তার নেতৃত্বে এটি ছিল পঞ্চম ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।
১৯৯৫ সালে ১৮ বছর বয়সে প্রেমিক টাডারিল শিপের সঙ্গে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী হিসেবে কারাগারে ছিলেন।
Keep Reading
Add A Comment

