সোমবার, মার্চ ২, ২০২৬
১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২(সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন।

সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব অভিযোগ তোলার পাশাপাশি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, আমি কাউকে কোনো দিন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক যে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন, সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আমি হাতের ভঙ্গি ব্যবহার করেছি। বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার একটি কথিত অপরাধের জন্য যদি অপরাধ হয়ে থাকে আমাকে তিনবার শাস্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রথমে ভ্রাম্যমাণ আদালত, এরপর শোকজ নোটিশ এবং পরে অনুসন্ধান কমিটি। আমি কীভাবে এমন একটি প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন করব, যারা শুরু থেকেই বায়াস্ট?’

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শোকসভার নামে প্রকাশ্যে সমাবেশ করছে। স্টেজ তৈরি করে মাইক ব্যবহার করে বক্তব্য দিচ্ছে, গরু জবাই করে লোকজনকে খাওয়াচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দিচ্ছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, সোমবার সকালে আমি রিটার্নিং অফিসারের কাছে গিয়েছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম কার বিরুদ্ধে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি আমাকে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

শোকজ নোটিশ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে পেয়েছেন। নির্ধারিত সময়ে তার আইনজীবী গিয়ে জবাব দেবেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচার শুরু হওয়ার আগেই রিটার্নিং অফিসার এ ধরনের চিঠি দিতে পারেন না এবং এ বিষয়ে আচরণবিধির বিভিন্ন ধারার কথাও তুলে ধরেন।

অন্যদিকে রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ অভিযোগ করা হয়। গত শনিবার নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের কাছে চিঠিটি পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল নির্মাণ করে বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করেন রুমিন ফারহানা, যা নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সমাবেশ ভেঙে দেওয়া হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালে রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেন। তিনি বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন ও আঙুল উঁচিয়ে বারবার হুমকিমূলক ভঙ্গি করেন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে থাকা জুয়েল মিয়াসহ কয়েকজন মারমুখী আচরণ করেন। এতে ‘মব’ সৃষ্টি হয়ে বিচারিক কাজে বাধা এবং কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের সমর্থনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর লিংকও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রুমিন ফারহানা ৪০০ থেকে ৫০০ লোকের উপস্থিতিতে জনসভা করে বড় স্টেজ নির্মাণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। জনসভা বন্ধের নির্দেশ দিলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। তার কর্মীরাও এ সময় মারমুখী আচরণ করেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে রোববার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ এলাকায় মতবিনিময়কালে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি আশা করি প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও সরকার নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। কাউকে ডান চোখে, কাউকে বাম চোখে দেখবেন না। আপনাদের ৫ আগস্টের কথা মনে রাখতে হবে। নিরপেক্ষতা না থাকলে সারা বাংলাদেশে যেমন ৫ আগস্ট হয়েছিল, তেমনিভাবে যেকোনো আসনেই ৫ আগস্ট ঘটতে পারে।

Leave A Reply

Exit mobile version