রবিবার, মার্চ ১, ২০২৬
১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৬ বিপিএলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের পারফরম্যান্স কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। ১১ ম্যাচে ১৮৭ রান তার ব্যাটের পুরো প্রভাব তুলে ধরে না। কারণ, এই রানগুলোর পেছনে লুকিয়ে ছিল এক অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তনের গল্প-যেখানে খেলাই ছিল বড় প্রশ্ন!

বিপিএল শুরুর আগে কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, তা নিজেই প্রকাশ করেছেন মাহমুদউল্লাহ। আজ নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার সময়ের একটি পুরোনো ছবি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, ‘জিমে পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার কার্যক্রম চলার সময় সেলফিটা তুলেছিলাম। তখন বেশ হতাশ ছিলাম। এবারের (২০২৬) বিপিএলে খেলতে পারব কি না, সেটা নিয়ে ভীষণ সন্দিহান ছিলাম। হাঁটুতে একটা চোট ছিল।’

হাঁটুর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার শঙ্কা ছিল এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের সামনে। পুনর্বাসনের সময়টা যে মানসিকভাবেও খুব কঠিন ছিল, সেটাও তাঁর লেখায় স্পষ্ট। তবে সেই সময়েই নিজের বিশ্বাসের জায়গাটা আরও দৃঢ় হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফেসবুক পোস্টে মাহমুদউল্লাহ আরও লিখেছেন, ‘দেখুন, অনেক কঠিন একটা সময় পার করছিলাম তখন (পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার সময়)। তবে আল্লাহ আমাকে পুনরায় ভাবতে শিখিয়েছেন। আমি চেষ্টা করে গিয়েছি আর সবকিছু আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ আমি খেলতে পেরেছি এবং আল্লাহ আমাকে আবারও সম্মানিত করেছেন। সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।’

২০২৬ বিপিএলে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থেকেও শুরুতে কোনো দল পাননি মাহমুদউল্লাহ। পরে রংপুর রাইডার্স তাকে দলে নেয়। সুযোগ পেয়ে অভিজ্ঞতার ছাপ রাখেন তিনি। ৩৭.৪ গড়ে ও ১৩৫.৩৯ স্ট্রাইকরেটে ১৮৭ রান করেন, আছে একটি ফিফটিও। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইনিংস খেলে দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টাও করেছেন একাধিকবার।

রংপুর রাইডার্স শেষ পর্যন্ত এলিমিনেটরে সিলেট টাইটানসের কাছে হেরে বিদায় নিলেও মাহমুদউল্লাহর কাছে এই বিপিএল আলাদা গুরুত্ব বহন করে। কারণ, এই টুর্নামেন্টে খেলাটাই ছিল তার জন্য বড় অর্জন। হতাশা আর সন্দেহের জায়গা থেকে মাঠে ফিরে এসে নিজের কথায় আবারও প্রমাণ করেছেন, বিশ্বাস থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই!

Leave A Reply

Exit mobile version