মার্কিন মুলুকে ক্ষোভ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তাঁকে ঘিরে জনরোষ দেশের রাস্তায় রাস্তায়। যুদ্ধবিরোধী স্লোগান আর ‘নো কিংস’ আন্দোলনের পতাকায় আন্দোলন মুখর হয়ে ওঠছে শহরের পর শহর। আর এর আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের মাটিতেও। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদের আগুন জ্বলছে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানে টানা একমাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ। পরিসংখ্যান বলছে, গত জুনে শুরু হওয়া ‘নো কিংস’ আন্দোলনের প্রথম দুই দফায় প্রায় ৫ মিলিয়ন মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। অক্টোবরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ মিলিয়নে। আর এবার শনিবার প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৯ মিলিয়নে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মার্কিন-ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালাচ্ছে, অথচ আমেরিকার উপর এখনও কোনও আক্রমণ হয়নি। ফলে এই যুদ্ধ একপাক্ষিক। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ইরান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি ট্রাম্পের কঠোর নীতির বিরুদ্ধেও তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ। দেশজুড়ে ৫০টি প্রদেশএ ছড়িয়ে পড়ে এই বিক্ষোভ। নিউইয়র্ক, শিকাগো, ওয়াসিংটন ডিসি, সহ আরও কয়েকটি শহরে তীব্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। প্ল্যাকার্ড হাতে ‘নো কিং’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে পড়ে শহরের একাধিক রাস্তা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। সেই হামলায় নিহত হন ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই এমনটাই দাবি করা হয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তরফে। যদিও ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে সংঘাত থামার কোনও লক্ষণ নেই। শনিবার পাল্টা আঘাত হানে ইরান। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিতে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ চরমে পৌছাঁয়। এই প্রণালী বন্ধ নিয়েই আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন ট্রাম্প।

