সোমবার, মার্চ ২, ২০২৬
১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্য করে তেহরানে এক শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, খামেনির অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর তার দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অন্তত ৩০টি বোমা বর্ষণ করা হয়। শনিবারের এই আকস্মিক অভিযানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইসরায়েল ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ ঠিকানার ওপর নজর রাখছিল। তাদের কাছে তথ্য ছিল যে, ওই স্থানে খামেনি নিয়মিত রাজনৈতিক নেতা এবং সামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। শনিবার গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন যে খামেনি নির্দিষ্ট একটি ভবনে অবস্থান করছেন। এরপরই কোনো সময় নষ্ট না করে আকাশপথে হামলা চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটনের কাছে আগাম খবর ছিল যে ইরান আমেরিকার বেশ কিছু স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। সম্ভাব্য সেই হুমকি মোকাবিলায় এবং আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরাসরি তেহরানে এই অভিযানের নির্দেশ দেন। গোয়েন্দা সূত্রে সেই পরিকল্পনার খবর পাওয়ামাত্রই শনিবার একযোগে মুহুর্মুহু হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার তিনটি ভিন্ন স্থানে সেনা কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে বৈঠকের কথা ছিল খামেনির। গোয়েন্দারা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করেন যে, ওই তিনটি স্থানের মধ্যে খামেনি ঠিক কোনটিতে উপস্থিত রয়েছেন। লক্ষ্যবস্তু নিশ্চিত করার পর যুদ্ধবিমান থেকে একের পর এক বোমা ফেলে খামেনির প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

এই ভয়াবহ হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেনাঘাঁটিও ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া নিহতের তালিকায় রয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসেরজাদা, কমান্ডার ইন চিফ মোহাম্মদ পাকপোর এবং খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্য, যার মধ্যে তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতনিও রয়েছেন।

Leave A Reply

Exit mobile version