সোমবার, মার্চ ২, ২০২৬
১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে মুসলিম বিশ্ব। তার রেশ আছড়ে পড়ল পাকিস্তানে। রবিবার শিয়া বহুল গিলগিট-বাল্টিস্তানের শারদু এলাকায় রাষ্ট্রসংঘের একটি অফিসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলা চালানো হয় করাচির মার্কিন কনস্যুলেটে। এই ঘটনা ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিক্ষোভ সামলাতে পালটা গুলিতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। লাহোর, পেশোয়ার ও অন্যান্য শহরেও মার্কিন কূটনৈতিক অফিসগুলির সামনেও চলে বিক্ষোভ। বিক্ষোভের আঁচ থেকে বাদ পড়েনি ইরাকের মার্কিন দূতাবাসও।
এদিন সাত সকালেই পাকিস্তানের বন্দর শহর করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরের ভিড় জমতে শুরু করে। কনস্যুলেট লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে উন্মত্ত জনতা। ভেঙে পড়ে কনস্যুলেটের জানালার কাচ। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। প্রাচীর টপকে কনস্যুলেট চত্বরে ঢুকে একদল বিক্ষোভকারী। জানালা এবং দরজার কাচ ভেঙে তারা মেন বিল্ডিংয়ে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে তারা। এক বিক্ষোভকারীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের এখন একতার প্রয়োজন। তাহলে কেউ আমাদের থামাতে পারবে না।’ অন্য একজন বলে, ‘আমরা করাচির আমেরিকার কনস্যুলেটে আগুন লাগিয়েছি। আমরা আমাদের নেতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিচ্ছি।’ তবে বিল্ডিংয়ে আগুন লাগানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি প্রশাসন। পাকিস্তানের এডি রেসকিউ সার্ভিস নামে এক উদ্ধাকারী সংস্থা জানিয়েছে, জনতাকে বাগে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। তাতে গুরুতর জখম হয়েছে অনেকে। সংস্থার মুখপাত্র মহম্মদ আমিন বলেন, ‘আমরা কম করে ৮টি দেহ হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কনস্যুলেটের ঘটনায় জখম প্রায় ৬০ জনের চিকিৎসা চলছে।’ তিনি বলেন, অধিকাংশেরই দেহে বুলেটের ক্ষত রয়েছে। সুমাইয়া সইদ তারিক নামে একজন পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘একাধিক ক্ষত নিয়ে প্রথমে ছ’টি দেহ হাসপাতালে আনা হয়। গুরুতর জখম বেশ কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছিল।’ পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
বিক্ষোভের আঁচে জ্বলছে ইরাকের বাগদাদও। শহরের সুরক্ষিত গ্রিন জোনে রয়েছে মার্কিন দূতাবাস। সেখানে ইরানের পতাকা হাতে ঢোকার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। জনতাকে হটাতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরাকের অন্য প্রদেশেও মার্কিন বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভ শুরু হয়েছে ট্রাম্পের ঘরেও। যুদ্ধের বিরোধিতা করে রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ। বিক্ষোভ হোয়াইট হাউসের বাইরে, নিউ ইয়র্ক টাইম স্কোয়ারে। সিউ জনশন নামে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘এই হামলায় মার্কিন কংগ্রেসের সমর্থন নেই। সবই হচ্ছে ট্রাম্পের একার সিদ্ধান্তে। তিনি নিজে একজন ফ্যাসিস্ট। তিনি এই দেশকে ফ্যাসিস্ট স্টেটে পরিণত করেছেন।’ আটলান্টা, বাল্টিমোর, বোস্টন, শিকাগো, সিনসিনাটি, লস অ্যাঞ্জেলস, মিয়ামি এবং মিনিয়োপোলিসেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

Leave A Reply

Exit mobile version