আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকার গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে। সমালোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে সংস্কারের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে সঠিক পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। সংস্কারের যৌক্তিক জায়গায় পৌঁছাতে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যমসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘Beyond the Ballot: Between Promise and Performance—নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের সমালোচনা করার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে এবং তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে মতপ্রকাশ করতে পারে। মতপ্রকাশের কারণে লেখক, সাংবাদিক, কার্টুনিস্টসহ কাউকে হয়রানি বা গ্রেপ্তারের অতীত সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।
আইন ও নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো আইনই চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় নয়। বাস্তবে প্রয়োগের পর প্রয়োজন দেখা দিলে সংশোধনের জন্য সরকার উন্মুক্ত থাকবে। মানবাধিকার কমিশন আইন এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরামর্শ ও যাচাই-বাছাই করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদকে সামনে রেখে সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ন রেখেই প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শের প্রয়োজন রয়েছে। যৌক্তিক প্রস্তাব বিবেচনা করে সংস্কার প্রক্রিয়াকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার সুযোগ রয়েছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিচারিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আইনানুগ প্রক্রিয়া ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে হবে। কোনো আদেশে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আপিল বা রিভিশনের সুযোগ রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। তবে লক্ষ্য হলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সংস্কারের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, “আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই, পিছনে ফিরতে চাই না।”
অনুষ্ঠানে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যম ও আইন পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। আলোচনায় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, জবাবদিহি, সুশাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

