Friday, July 17, 2026

সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্কের মাঝে অভয় দিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ।বুধবার বন্দর ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরিষ্কার জানান, দেশে বর্তমানে জ্বালানির কোনো দ্রুত সংকটের শঙ্কা নেই।

ক্যাপ্টেন আহমেদ আমিন জানান, সকল প্রকার জ্বালানি খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং পর্যাপ্ত মজুদ পাইপলাইনে আছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এ পর্যন্ত ১৮টি জ্বালানি ও গ্যাসুবাহী জাহাজ এসেছে। এর মধ্যে ৮টি জাহাজ খালাস শেষে চলে গেছে, ৬টি থেকে বর্তমানে খালাস চলছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যে আরও ৪টি জাহাজ বন্দরে এসে পৌঁছাবে।

আগামী দেড় মাসের সব ধরনের জ্বালানি বর্তমানে সরবরাহের পাইপলাইনে রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, মঙ্গলবার সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার ৫ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ জাহাজটি বন্দরে ভিড়েছে। এর আগে গত সোমবারও ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে ‘শিউ চি’ নামের আরেকটি জাহাজ বন্দরে আসে। এ ছাড়া আগামী ১২ ও ১৪ মার্চ আরও দুটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের যুদ্ধের উত্তেজনায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বাড়লেও বাংলাদেশে সংকট মোকাবিলায় সরকার নানা পরিকল্পনা নিয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মোট ৫টি ট্যাংকারে ১ লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন ডিজেল দেশে যুক্ত হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৩ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছে, যার ৭৮ শতাংশই এসেছে এশীয় দেশগুলো থেকে।
বন্দরের সদস্য আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ আরও জানান, জ্বালানিবাহী সব জাহাজকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ‘অগ্রাধিকার বার্থিং’ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বহির্নোঙরে অবস্থানরত মাদার ভেসেলের নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সুতরাং পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি নিয়ে যে অস্থিরতা বা দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে, তা মূলত পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া আতঙ্ক মাত্র; বাস্তবে ঘাটতির কোনো কারণ নেই।

Exit mobile version