Friday, July 17, 2026

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রস্তাব করেছে, তা ভবিষ্যৎ চুক্তির ভিত্তি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইউক্রেনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন— দখল করা অঞ্চল থেকে কিয়েভ সেনা না সরালে রুশ সেনারা জোর করেই আরও ভূখণ্ড দখল করবে।

বৃহস্পতিবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পুতিন জানান, আগামী সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মস্কো সফরে যাবে। তিনি বলেন, ‘ক্রেমলিন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য প্রস্তুত।’
এই বিষয়ে সিএনএন জানিয়েছে, দ্রুত কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ পুতিন আবারও তার সর্বোচ্চ দাবিটিকেই সামনে এনেছেন। তিনি ইউক্রেনের সেনাদের দখলকৃত অঞ্চল থেকে পুরোপুরি সরে যেতে বলেছেন।

পুতিন সতর্ক করে বলেছেন, ‘যদি তারা না সরে, আমরা সামরিক উপায়ে তা নিশ্চিত করব।’

বর্তমানে রাশিয়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে লুহানস্ক অঞ্চলের প্রায় পুরোটা এবং দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়ার কিছু অংশ। মস্কো এই চারটি অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে ইউক্রেনকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়া পূর্ব ফ্রন্টে কিছু অগ্রগতি করেছে, বিশেষ করে পোকরভস্ক শহর ঘিরে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার বলেছে, রাশিয়ার অগ্রগতির হার দেখে মনে হচ্ছে, তারা খুব দ্রুত পুরো দোনেৎস্ক দখল করে নিতে পারবে না।
রাশিয়ার দাবি করা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের ‘ফরট্রেস বেল্ট’ বা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা লাইন— যা ইউক্রেনের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে মার্কিন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা জানিয়ে দিয়েছে, ভূখণ্ড ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া শান্তি পরিকল্পনায় রাশিয়ার বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রথম খসড়ায় ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ছোট করা এবং ন্যাটোতে যোগদান নিষিদ্ধ করার বিষয়ও ছিল। সংশোধিত খসড়া নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হবে বলে পুতিন জানান এবং বলেন, এই পরিকল্পনা ‘ভবিষ্যৎ সমঝোতার ভিত্তি’ হতে পারে।

Exit mobile version