কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে দেশটি।
শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অননুমোদিত ট্যাংকার চলাচলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তাদের দাবি, কেশম দ্বীপ ও সিরিক এলাকায় অবস্থিত আইআরজিসির যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়।
এর জবাবে ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে চারটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে। ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয় এবং বাকি জাহাজগুলো ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
পরে রাত ২টার দিকে কেশম ও সিরিক দ্বীপে অবস্থিত আইআরজিসির টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন বাহিনী ড্রোন হামলা চালায় বলে অভিযোগ করে তেহরান। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছে ইরান।
আইআরজিসি সতর্ক করে জানিয়েছে, এ ধরনের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে তাদের জবাব আরও কঠোর হবে। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, ভবিষ্যতে যেকোনো হামলার ঘটনায় হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এমন পরিস্থিতির দায়ভার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর বর্তাবে বলেও দাবি করেছে তারা।

