Friday, July 24, 2026

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা নতুন করে আগামী ৩০ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করেন।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘ তদন্তের ইতিহাস

গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম ঢাকার আদালতে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন)-এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় তিনি দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক ছিলেন।
প্রথমে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ এনে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমানের বাবা রিভিশন আবেদন করেন। পরে ২০০৩ সালে আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও সেখানেও হত্যার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পিবিআই তদন্তেও মেলেনি হত্যার প্রমাণ

সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলার কার্যক্রম চালিয়ে যান। ২০১৫ সালে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তিনি নারাজি আবেদন দিয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন।
পরে মামলাটি র‌্যাবের কাছে গেলেও আদালতের নির্দেশে তদন্তভার যায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে। চার বছর তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইও চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানায়, হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তদন্তে ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, আলামত ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে পিবিআই মত দেয়, পারিবারিক কলহ, ব্যক্তিগত মানসিক চাপ ও অভিমান থেকেই সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন।

পুনরায় তদন্তের নির্দেশ

পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হয়ে নীলা চৌধুরী পুনরায় তদন্তের দাবি জানান। ২০২১ সালে আদালত পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতি দিলেও পরে সালমান শাহর পরিবারের করা রিভিশন আবেদন গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালত সালমান শাহর বাবার অভিযোগ ও রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলার তদন্তের নির্দেশ দেন এবং রমনা মডেল থানাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা পলাতক ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহকে হত্যা করেন। বর্তমানে সেই অভিযোগের তদন্ত চলছে।

Exit mobile version