Friday, July 17, 2026

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের দণ্ড অনুমোদনের নথি (ডেথ রেফারেন্স) হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন ডেথ রেফারেন্সে স্বাক্ষর করার পর মামলার নথিপত্র হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, মামলার ৬৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় এবং তিন পৃষ্ঠার ডেথ রেফারেন্সসহ মোট ৭২ পৃষ্ঠার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, অধস্তন আদালতের দেওয়া কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এ কারণে বিচারিক আদালত মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠায়, যা ‘ডেথ রেফারেন্স’ নামে পরিচিত। ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে হাইকোর্ট মৃত্যুদণ্ড বহাল, সংশোধন অথবা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন।
এর আগে গত ৭ জুন রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর দুই আসামিকে কনডেম সেলে পাঠানো হয়।
রায়ে সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আদালত নির্দেশ দেন, অর্থদণ্ডের অর্থ ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ভিকটিমের পরিবারকে প্রদান করতে হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ওই দিনই শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২৪ মে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়। ২ জুন মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।
আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন করে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম বিচারপ্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Exit mobile version