Monday, August 31, 2026

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণসাগর উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র আরখিপো-ওসিপোভকার একটি সমুদ্রসৈকতে ড্রোন বিস্ফোরণে তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনদ্রাতিয়েভ জানান, সোমবার গ্রামের কাছের সৈকতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দ্রুতগতিতে একটি ড্রোন সৈকতের দিকে ধেয়ে এসে বিস্ফোরিত হতে দেখা যায়। ভিডিওটির সত্যতা বিবিসি যাচাই করেছে।
হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে কনদ্রাতিয়েভ অভিযোগ করেন, বেসামরিক মানুষের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইউক্রেন এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দুই দেশই বরাবরের মতো বেসামরিক মানুষ বা স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্য সৈকত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইউক্রেনপন্থী কয়েকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলের দাবি, ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কারণে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৈকতে আছড়ে পড়ে।
রাশিয়ার কয়েকটি সংবাদমাধ্যম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের আগে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ড্রোনটি ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছিল।
কৃষ্ণসাগর উপকূলের এই সৈকত রাশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। উষ্ণ আবহাওয়া, দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত এবং উন্নত পর্যটন সুবিধার কারণে প্রতি বছর হাজারো পর্যটক এখানে অবকাশ যাপনে আসেন।
গত এক বছরে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিয়েভের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি স্থাপনা ও সরবরাহকেন্দ্র। তবে বিভিন্ন ঘটনায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, গত শনিবার রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাজধানী কিয়েভে অন্তত নয়জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

Exit mobile version