Friday, July 17, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক অভিযান এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৩৩ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫.২৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪২ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০.০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন বুধবারও উভয় সূচক প্রায় ০.৩ শতাংশ বেড়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ইরানের কয়েকটি বন্দর এলাকায় পুনরায় নৌ-অবরোধ আরোপের পাশাপাশি দেশটির উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এর জবাবে ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানি আরও সীমিত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অস্তিত্বের যুদ্ধে’ রয়েছে।
নিসান সিকিউরিটিজ ইনভেস্টমেন্টের প্রধান কৌশলবিদ হিরোইউকি কিকুকাওয়া বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা তেলের বাজারে কেনার প্রবণতা বাড়িয়েছে। যদিও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা এখনো সীমিত। তবে সংঘাত আরও তীব্র হলে ডব্লিউটিআই তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ থেকে ৮৭ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলতি সপ্তাহে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা। বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ রুটে যেকোনো বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া ইরান ইয়েমেনের হুথি মিত্রদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহন পথই ঝুঁকির মুখে পড়বে।
এদিকে গোল্ডম্যান স্যাক্সের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হলে চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে উত্তেজনা কমে গেলে এবং উৎপাদন দ্রুত বাড়লে বছরের শেষ দিকে দাম আবার ৬০ ডলারের ঘরে নেমে আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১০ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের মজুত ১৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। যদিও বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল, এ সময়ে মজুত কমবে ২৬ লাখ ব্যারেল।

Exit mobile version