বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেবে কি না তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটল। ফুটবলের এই বৈশ্বিক আসরে ইরানকে সাদরে আমন্ত্রণের কথা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানালেও তাতে সায় দিচ্ছে না ইরান। চলমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর থেকেই ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা হামলা চালালে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল বলেন, এই দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই। আমাদের ওপর কয়েক মাসের ব্যবধানে দুইটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ফুটবল খেলা সম্ভব নয় বলেই ইরান সরকার বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের খেলার কথা ছিল নিউজিল্যান্ড এবং বেলজিয়ামের বিপক্ষে। এছাড়া সিয়াটলে তাদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল মিসরের। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ইরানকে স্বাগত জানানোর আশ্বাস দিলেও ইরানের অনড় অবস্থানে সেই সম্ভাবনা এখন শেষ হয়ে গেল।

এদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সৌদি আরব, জর্ডান, কাতার ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার কারণে সংঘাতের বিস্তার এখন বিশ্বকাপ অংশগ্রহণের পথে বড় বাধা। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ালে টুর্নামেন্টের গ্রুপ বিন্যাসেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave A Reply

Exit mobile version