Friday, July 17, 2026

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন কঠিন হলেও তা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কার্যত ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের অস্তিত্ব স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। আল জাজিরার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
ইয়েমেনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আল-নুয়াইমির সঙ্গে বৈঠকে গালিবাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বাস্তবে প্রতিরোধ অক্ষের অন্তর্ভুক্ত ইরানের মিত্রদের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে। এটি এই সমঝোতা স্মারকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।’
তিনি আরও দাবি করেন, এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি রাজনৈতিক পরাজয় এবং সামরিক ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ জন্য একটি বড় সাফল্য।
‘প্রতিরোধ অক্ষ’ কারা?
ইরানের নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক জোট ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ (প্রতিরোধ অক্ষ)-এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন, গাজার হামাস এবং ইরাকভিত্তিক কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী।
গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, ইরানের কোনো ধরনের দুর্বলতা যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল অনুভব করে, তাহলে তারা আবারও যুদ্ধের পথ বেছে নিতে পারে।
‘সামরিক অর্জন ধরে রাখতে কূটনীতি প্রয়োজন’
রোববার ইরানের সংবাদ সংস্থা ইসনার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা বাস্তবায়নকে গালিবাফ ‘কঠিন হলেও সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেছেন।
হামাসের এক নেতার সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, সামরিক অঙ্গনে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখা এবং আরও শক্তিশালী করতে কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান অচলাবস্থা দূর করতে হবে।
এদিকে আল জাজিরা, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে জানিয়েছে, হামাসের উপদেষ্টা শুরা কাউন্সিলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে গালিবাফ বলেন, ‘সামরিক অর্জন সংরক্ষণে কূটনীতিকে কাজে লাগাতে হবে এবং সেই কূটনীতির পেছনে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সমর্থন থাকতে হবে।’
চুক্তিতে যেসব শর্তের কথা বলছে তেহরান প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার জানাজা অনুষ্ঠানের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে গালিবাফ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরান জোর দিয়ে দাবি করেছে, যেকোনো চুক্তিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানো এবং ইরানের মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
তবে এসব মন্তব্য ইরানের পক্ষের দাবি। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

Exit mobile version