দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর সরাসরি কূটনৈতিক আলোচনায় বসেছে প্রতিবেশী দুই দেশ লেবানন ও ইসরায়েল।মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় এই ঐতিহাসিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের বরফ গলাতে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে লেবাননের পক্ষে নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ এবং ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করেন রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটর।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ইসা, স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাউন্সেলর মাইকেল নিধাম এবং জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়ালটজ। বৈঠকের শুরুতে কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমের জন্য সংক্ষিপ্ত সময় ছবি তুললেও পরবর্তী আলোচনা রুদ্ধদ্বার পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আলোচনাকে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এটি কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়। অত্যন্ত জটিল এই সমস্যাগুলো কয়েক ঘণ্টায় সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে আমরা একটি কাঠামো তৈরি করার চেষ্টা করছি। এর মাধ্যমে একটি স্থায়ী ও ইতিবাচক সমাধানের পথ তৈরি হবে।
বৈঠক নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটর। তিনি সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে বলেন, এই আলোচনা থেকে তিনি ভালো কিছুরই প্রত্যাশা করছেন।
একদিকে যখন ওয়াশিংটনে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, অন্যদিকে লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গত মার্চ থেকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান ও স্থল হামলা আবারও জোরদার হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাতের জেরে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৮৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৭ শতাধিক মানুষ।
এই আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কোনো গুণগত পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে এই সরাসরি সংলাপকে শান্তির পথে একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

