যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অপহরণের এক মাস পর প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবিতে রাজধানী কারাকাসে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছে। মাদুরো ও তার স্ত্রীর অপহরণের প্রতিবাদে বৈশ্বিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি সংঘটিত হয়। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্যে মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গেরা বলেন, “একটি বিদেশি বাহিনী আমাদের মাতৃভূমির মাটি অপবিত্র করেছে। ৩ জানুয়ারির অভিযানের স্মৃতি আমাদের বুকে চিরদিনের মতো একটা ক্ষত হয়ে থাকবে।”
বিক্ষোভকারীরা “তাদের ফিরিয়ে দাও” এবং “ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপ করা যাবেনা” লেখা ব্যানার বহন করেন। সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরাও মিছিলে যোগ দেন। সংগীতবাহী ট্রাকের নেতৃত্বে কয়েকশ মিটারজুড়ে এই মিছিল বিস্তৃত হয়। পৌর কর্মচারী হোসে পেরদোমো বলেন, “আমরা বিভ্রান্ত, দুঃখিত ও ক্ষুব্ধ। অনেক আবেগ একসঙ্গে কাজ করছে। একদিন না একদিন তাদের আমাদের প্রেসিডেন্টকে মুক্ত করতেই হবে।”
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই বিক্ষোভ ছিল বৈশ্বিক সংহতি কর্মসূচির অংশ। বিভিন্ন দেশে একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অপহরণকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে নিন্দা জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ একদিকে মাদুরো সমর্থকদের চাপ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে গিয়ে শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছেন এবং ভেনেজুয়েলার হাইড্রোকার্বন খাত বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করেছেন। তিনি সাধারণ ক্ষমা আইনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন, যদিও এখনো তা সংসদে উত্থাপিত হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ওয়াশিংটনের স্বার্থের সঙ্গে কারাকাসের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে তিনি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

