Sunday, July 19, 2026

বিশ্বকাপ ফাইনাল মানেই কৌশল, একাদশ, তারকাদের লড়াই আর কোটি ফুটবলপ্রেমীর উন্মাদনা। এবারও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও স্পেনের লামিন ইয়ামালকে ঘিরে উত্তেজনার কমতি নেই। তবে ফাইনালের আগে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এক অদৃশ্য প্রতিপক্ষ—বিষাক্ত বায়ুদূষণ।
রোববার (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। কিন্তু এরই মধ্যে কানাডার ভয়াবহ দাবানল থেকে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ায় নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি অঞ্চল ঘন ধূসর কুয়াশায় ঢেকে গেছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে নিউইয়র্ক প্রশাসন জরুরি স্বাস্থ্যসতর্কতা জারি করেছে।
নগরবাসীকে অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া, দৌড়ানো ও ব্যায়াম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের পাশাপাশি সুস্থ মানুষের জন্যও বর্তমান বায়ুমান ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন স্থানে মাস্কও বিতরণ করা হচ্ছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, কানাডার দাবানলের ধোঁয়া সরাসরি শহরের ওপর প্রভাব ফেলেছে। বাতাসের মান এমন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যেখানে সবার স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। তাই তিনি নগরবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
দূষণ বিশেষজ্ঞ মাইকেল পেট্রোনি নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিউইয়র্কের বাতাসে শ্বাস নেওয়া দিনে প্রায় ১০টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর।
বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ছিল শিকাগো, ডেট্রয়েট ও নিউইয়র্ক। কানাডার দাবানলের ধোঁয়ার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে।
তবে এখন পর্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশ দুই ফাইনালিস্ট দলের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি। স্পেন উত্তর নিউ জার্সির ইস্ট হ্যানোভারে অনুশীলন করেছে। অন্যদিকে আটলান্টায় শেষ অনুশীলন শেষে নিউ জার্সিতে পৌঁছেছে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা।
২০২৩ সালে কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় নিউইয়র্কের আকাশ কমলা রঙ ধারণ করেছিল এবং বায়ুমান সূচক ৪৬৫-এ পৌঁছেছিল। এবারও সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে মিডওয়েস্ট অঞ্চলের কয়েকটি স্থানে বায়ুদূষণের মাত্রা ২০২৩ সালের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে।
এরই মধ্যে বায়ুদূষণের প্রভাব খেলাধুলাতেও পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের শিকাগো ফায়ার ও ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের ম্যাচ নিম্নমানের বায়ুর কারণে স্থগিত করা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে বিশ্বকাপ ফাইনালেও কি এর প্রভাব পড়তে পারে?
তবে এখন পর্যন্ত ফিফা বা আয়োজকদের পক্ষ থেকে সূচি পরিবর্তনের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সময়েই ফাইনাল আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ভাইরাল হয়েছে ২০০৭ সালে ইউনিসেফের একটি ফটোশুটের ছবি, যেখানে শিশু লামিন ইয়ামালকে গোসল করিয়ে দিচ্ছিলেন তরুণ লিওনেল মেসি। প্রায় দুই দশক পর সেই ইয়ামালই এখন স্পেনের অন্যতম বড় তারকা হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির প্রতিপক্ষ।
সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বের প্রত্যাশা—ফাইনালের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হোক মাঠের লড়াই, বিষাক্ত ধোঁয়া বা স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়।

Exit mobile version