Friday, July 17, 2026

ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, জনদুর্ভোগ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। রিটে সর্বসাধারণের জন্য বিশ্বকাপের খেলা বড় পর্দায় প্রদর্শন ও উদযাপনের সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও লাউডস্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাত ১১টার পর উচ্চ শব্দে আতশবাজি ও শব্দযন্ত্রের ব্যবহার বন্ধে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন দাখিল করেন।
রিটকারী আইনজীবী জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ পর্যন্ত অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া গভীর রাতে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফোটানো ও লাউডস্পিকার ব্যবহারের কারণে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। জনস্বার্থে বিষয়টি বিবেচনা করেই রিটটি করা হয়েছে।
আবেদনের সঙ্গে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের’ শীর্ষক প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও বাংলাদেশে তা অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দলের সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজন ছুরিকাঘাতে নিহত হন এবং বিভিন্ন ঘটনায় আহত হন অন্তত ৪৫ জন। পরে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ধনপুর এলাকায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় ব্রাজিল সমর্থক মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নিহত হলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১ জনে দাঁড়ায়।
বিশ্বকাপ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যেসব স্থানে বড় পর্দায় খেলা প্রদর্শন করা হবে, সেসব এলাকায় ডিবির বিশেষ নজরদারি থাকবে।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলা বিনোদনের একটি অংশ এবং এতে জয়-পরাজয় থাকবেই। কিন্তু সেই বাস্তবতা স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার মানসিকতার ঘাটতি আমাদের সমাজে রয়েছে। তাঁর মতে, এটি শুধু খেলাধুলার ক্ষেত্রেই নয়; রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে না পারার প্রবণতা সমাজে বিদ্যমান।

Exit mobile version