মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে বাড়তি ডিজেল আমদানির অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বাড়তি ডিজেল সরবরাহের একটি চিঠি পাওয়া গেছে যা বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে সরবরাহের আগে ভারত তার নিজস্ব মজুত, অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং তেল শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ থেকেও ভারত একই ধরনের অনুরোধ পেয়েছে।
এর আগে বুধবার (১১ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সাথে ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আগামী চার মাসে বর্তমান বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মা জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম স্তম্ভ এবং ভারত সবসময় তার বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশীর পাশে থাকতে চায়।
বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি রয়েছে। দেশে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা ১২ থেকে ১৩ হাজার মেট্রিক টন।
এই চাহিদার যোগান দিতে সোমবার (৯ মার্চ) থেকেই পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে ডিজেল পৌঁছাতে শুরু করেছে। সোমবার বিকেলেই প্রায় ৫ হাজার টন ডিজেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে এসে পৌঁছেছে। এই পাইপলাইনের বার্ষিক সক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টন হলেও বর্তমানে চুক্তির আওতায় এর আংশিক ব্যবহার হচ্ছে।

