রবিবার, মার্চ ১, ২০২৬
১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সচিবালয়ের কর্মচারী খন্দকার শামীমের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে অপহৃত হওয়ার ঘটনায় দ্রুত সাড়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় এক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর খিলগাঁও থেকে স্কুলছাত্রটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, অপহৃত ছেলেটি খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। দুপুর আড়াইটার দিকে স্কুল থেকে বের হওয়ার সময় চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত তাকে আটক করে। পরে তাকে জোড়পুকুর এলাকার একটি নির্মাণাধীন সাততলা ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে ছেলেটিকে মারধর করে বাবার মোবাইল নম্বর নিয়ে ফোন করে অপহরণকারীরা। তারা ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়।

ছেলের অপহরণের খবর পেয়ে সচিবালয়ের ওই কর্মচারী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে উপস্থিত হন এবং সেখানেই সাক্ষাৎ পান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটি শুনে সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ছেলেটিকে উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর তারা দ্রুত কাজ শুরু করেন। অপহরণকারীরা যে নম্বর থেকে ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করছিল, সেই নম্বরে যোগাযোগ করা হয়। টাকা পাঠানোর কথা বলে অপহরণকারীদের কাছ থেকে একটি নম্বর চাওয়া হয়। প্রথমে দুর্বৃত্তরা নম্বর দিতে দেরি করলে এবং দরকষাকষি শুরু করলে পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করে ফেলে।

ডিসি মাসুদ আলম আরও জানান, আমরা খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুরের ওই নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালাই। সেখান থেকে ছেলেটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হই। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটি জানার পরই দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পুলিশকে ফোন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এই দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে স্কুলছাত্রটির প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পালিয়ে যাওয়া অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave A Reply

Exit mobile version