নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫৭৯ পর্যটক। এ ছাড়া পুলিশ, সেনা ও বিদ্যুৎকর্মীসহ আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার সকালে উত্তর নেপালের ভোটে কোশি নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে এই দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। তিব্বত সীমান্তের স্যাব্রুবেসি ও তিমুর এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, যানবাহন, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে গেছে।
নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সীমান্তের দুই পাশেই উদ্ধার অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত ৮৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।
নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি ভারতীয়, ৫৪ জন মার্কিন ও ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬ পুলিশ সদস্য, ৯ সশস্ত্র পুলিশ কর্মকর্তা এবং ৪৪ সেনাসদস্যও রয়েছেন।
কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কসহ দুর্গত এলাকার বেশিরভাগ যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তীব্র বাতাসের কারণে হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার অভিযানেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে ত্রিশূলি বাজার এলাকায় নদীর পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে একটি সেতু ভেসে গেছে এবং নদীতীরের কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় চিকিৎসক দল, স্কাউট ও রেড ক্রসের সমন্বয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

