রবিবার, মার্চ ১, ২০২৬
১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জন্ম হয়েছিল পুরুষ হিসাবে। কিন্তু মানসিকভাবে নিজেকে নারী হিসাবেই দেখত কানাডার স্কুলে হামলাকারী জেসে ভ্যান রুটসেলার। শরীর এবং মনের দ্বৈতে তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগত সে। মাঝে মাঝেই মানসিক বিকৃতি দেখা দিত। সম্ভবত সেই বিকৃতি থেকেই বুধবার কানাডার স্কুলে হামলা চালিয়েছে রুটসেলার। প্রাথমিকভাবে এমনটাই মনে করছে পুলিশ।

বুধবার কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় রুটসেলার। প্রশাসনের তরফে জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতো বুধবার ক্লাস চলছিল ওই সেকেন্ডারি স্কুলে। স্থানীয় সময় অনুযায়ী দুপুর ১টা ২০ নাগাদ স্কুলে ঢোকে আততায়ী। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে সে। প্রাণ বাঁচাতে যে যেদিকে পারেন দৌড়তে শুরু করেন। গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ৯ জনের। পাশাপাশি আহত হন আরও অন্তত ২৪ জন। পুলিশে খবর দেওয়া হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে বিশাল নিরাপত্তাবাহিনী। দীর্ঘক্ষণ দুপক্ষের গুলির লড়াইয়ের পর আততায়ীর মৃত্যু হয়।

কানাডা পুলিশ জানিয়েছে, ওই আততায়ী আসলে একজন ট্রান্সজেন্ডার। ছোটবেলা থেকেই মানসিক সমস্যা ছিল তার। যে স্কুলে সে হামলা চালিয়েছে, একটা সময় পর্যন্ত সেখানেই পড়াশোনা করত সে। বছর চারেক আগেই সেই স্কুল ছেড়েছে। আসলে বরাবরই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রুটসেলার। এর আগে একাধিকবার কানাডা সরকারের তরফে তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য তাকে আটকও করে পুলিশ। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল এ হেন মানসিক রোগীর নাকি অতীতে বন্দুকের লাইসেন্সও ছিল। যদিও পরে তা বাতিল হয়।
জানা গিয়েছে, স্কুলে হামলার আগে বাড়িতে নিজের মা ও ভাইকে হত্যা করে রুটসেলার। তারপরই সে হানা দেয় নিজের পুরনো স্কুলে। পুরোটাই কি এতদিনের মানসিক হেনস্তার বদলা নেওয়ার অভিসন্ধি থেকে?

Leave A Reply

Exit mobile version