বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর একটি বিশেষ এলাকা থেকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। গোয়েন্দা সংস্থা ও ডিবি পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

বিগত কয়েক দিন ধরে উচ্চপদস্থ সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের আটকের যে ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে, শেখ মামুন খালেদের আটক সেই তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করল।

বিশেষ করে গত সোমবার রাতে সাবেক সেনাসদস্য ও এক-এগারোর অন্যতম আলোচিত মুখ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গ্রেপ্তারের রেশ কাটতে না কাটতেই এই ঘটনাটি ঘটল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেখ মামুন খালেদ বেশ কিছু দিন ধরেই গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন। বুধবার রাতে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে তাকে আটক করে।

তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার মতো স্পর্শকাতর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কেবল পেশাগত সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ নয়, বরং তা রাষ্ট্রীয় ও আর্থিক খাতের নানা অনিয়মের সাথে জড়িত। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা: ডিজিএফআই-এর মতো একটি সংবেদনশীল সংস্থাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে তার মেয়াদে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারে কাজ করার অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এক-এগারোর বিতর্কিত ভূমিকা: ২০০৭-০৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ মামুন খালেদ ডিজিএফআই-এর কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

সেই সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর দমন-পীড়ন এবং ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বাস্তবায়নে তার ভূমিকার বিষয়ে দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান চলছিল।

জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পে অনিয়ম: সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন কাজে বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে।

Leave A Reply

Exit mobile version