সোমবার, মার্চ ২, ২০২৬
১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করায় কানাডার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর বদলে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বেছে নিলে এক বছরের মধ্যেই বেইজিং কানাডাকে ‘গ্রাস’ করতে পারে।
শুক্রবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, গ্রিনল্যান্ডে ‘দ্য গোল্ডেন ডোম’ নির্মাণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে কানাডা, অথচ এই ব্যবস্থা কানাডাকেও সুরক্ষা দিত। এর বদলে তারা চীনের সঙ্গে ব্যবসার পক্ষে ভোট দিয়েছে। যারা প্রথম বছরের মধ্যেই তাদের ‘খেয়ে ফেলবে’।

টানাপোড়েনের নেপথ্যে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৫৬তম বার্ষিক সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্যের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

গত বুধবার ডব্লিউইএফে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া ‘ফ্রি সুবিধা’, বিশেষ করে নিরাপত্তা সুরক্ষাসহ কানাডা আমাদের কাছ থেকে অনেক সুবিধা পায়। তাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত, কিন্তু তারা তা করছে না। গতকাল কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি, তিনি কৃতজ্ঞ ছিলেন না।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা টিকে আছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, পরের বার বক্তব্য দেওয়ার সময় এটা মনে রাখবেন, মার্ক।

কানাডার পাল্টা অবস্থান অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা তুলে ধরে শুল্ককে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করেন। একে ওয়াশিংটনের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ প্রচেষ্টার প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি কানাডা ও চীনের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দেন কার্নি। এই চুক্তির মাধ্যমে কানাডার জন্য ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি বাজার উন্মুক্ত হবে বলে জানানো হয়।

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আরও বিভক্ত ও অনিশ্চিত বিশ্বে কানাডা একটি শক্তিশালী, স্বাধীন ও সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলছে। সে লক্ষ্যেই নতুন সরকার বাণিজ্য অংশীদার বৈচিত্র্য করছে। কার্নির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীন এখন কানাডার জন্য বেশি ‘পূর্বানুমেয়’ অংশীদার।

চুক্তির বিস্তারিত চুক্তির অংশ হিসেবে কানাডা চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর আরোপিত ১০০ শতাংশ শুল্ক কমাতে সম্মত হয়েছে। বিনিময়ে চীন কানাডার প্রধান রপ্তানি পণ্য ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক ৮৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামাবে। প্রাথমিকভাবে বছরে ৪৯ হাজার চীনা ইভি আমদানির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে কানাডা বিভিন্ন শুল্কচাপের মুখে রয়েছে। কানাডীয় পণ্যের ওপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি আমদানিকৃত ধাতুর ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এই কড়া মন্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলল।

Leave A Reply

Exit mobile version