সোমবার, জুন ১, ২০২৬
১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট । তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত ছিল ইরানকে পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত থাকতে হবে এবং তেহরান সেই শর্তে সম্মত হয়েছে।
ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা প্রশমনের পথে? একই সঙ্গে আলোচনায় এসেছে, ওয়াশিংটনের চাপের মুখেই কি অবস্থান পরিবর্তন করেছে তেহরান?
যুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা এবং ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর। পাশাপাশি তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার শর্তও দেওয়া হয়। তবে এসব শর্ত মেনে নিতে ইরান অনাগ্রহী বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে শনিবার রাতে মার্কিন একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার শুধু একটি নিশ্চয়তা প্রয়োজন—ইরানের হাতে যেন কোনো পরমাণু অস্ত্র না থাকে। মজার বিষয় হলো, তারা আমাদের প্রস্তাবে রাজি হয়েছে।”
তবে ট্রাম্পের এ দাবির বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম উৎপাদনের মাত্রার কাছাকাছি। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, এই ইউরেনিয়াম আরও পরিশোধন করা হলে তা থেকে একাধিক পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।
এদিকে, মার্কিন সংবাদপত্র -এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অধিকাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায়। ওই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার পরিকল্পনাও করেছিল মার্কিন বাহিনী।
এর আগে গত সপ্তাহেও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের বিষয়ে ইরান নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এবার তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে দাবি করলেন, তেহরান পরমাণু অস্ত্র নির্মাণ থেকেও বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা সম্পর্কে ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।

Leave A Reply

Exit mobile version