Friday, July 17, 2026

দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে শুক্রবার ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ থেকে ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে সাত দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠান ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে খামেনির মরদেহ রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA) জানিয়েছে, শনিবার (৪ জুলাই) তাঁর মূল জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশটির লাখো মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অতিথিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে হাজারো মানুষ কালো পোশাক পরে শেষ শ্রদ্ধা জানান। লাল ফুল ও সাদা প্রজাপতির প্রতীকী সাজসজ্জার মধ্য দিয়ে কফিনটি রাখা হয়েছে।

কেন চার মাস পর দাফন?

সাধারণত ইসলামি রীতিতে মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব দাফনের বিধান থাকলেও খামেনির ক্ষেত্রে প্রায় চার মাস পর দাফনের সিদ্ধান্ত ব্যতিক্রমী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় তিনি নিহত হন বলে ইরান দাবি করে।

ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, তাঁর মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল ছিল। ফলে বড় পরিসরে জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুষ্ঠানটি স্থগিত রাখা হয়েছিল।

এতদিন মরদেহ কোথায় ছিল?

খামেনির মরদেহ কোনো গোপন স্থানে অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছিল—এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো সময় মরদেহ ইসলামি শরিয়াহ ও প্রচলিত আইন মেনে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর বলেন, ইসলামে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে মরদেহ সংরক্ষণ (এম্বামিং) নিরুৎসাহিত করা হয়। তাই খামেনির মরদেহ রাসায়নিক পদ্ধতির পরিবর্তে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রার আধুনিক কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেন।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ ও জরুরি পরিস্থিতিতে শিয়া ইসলামি আইনে দাফনে বিলম্ব এবং শীতল পরিবেশে মরদেহ সংরক্ষণের সুযোগ রয়েছে। একজন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়। পাশাপাশি ইরানের ফরেনসিক মর্গগুলোতেও বিভিন্ন তদন্ত বা আইনি প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের নজির রয়েছে।

তবে খামেনির মরদেহ ঠিক কোন প্রযুক্তিগত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Exit mobile version