Friday, July 17, 2026

দেশজুড়ে শিশুশ্রম বেড়ে নতুন করে আরও ১২ লাখ শিশু ঝুঁকিতে পড়েছে। একইসঙ্গে ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী চার শিশুর মধ্যে প্রায় একজনের রক্তে পাওয়া গেছে অতিরিক্ত সীসা, যা সরাসরি মস্তিষ্কের বিকাশে আঘাত হানে। ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর যৌথ জরিপ এমআইসিএস ২০২৫–এর প্রাথমিক ফলাফল বলছে, দেশের শিশুস্বাস্থ্য, সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বড় ধরনের সতর্কসংকেত জ্বলে উঠেছে।

রবিবার রাজধানীর একটি অডিটোরিয়ামে জরিপের ফল প্রকাশ করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। ৬৩ হাজার পরিবারের ওপর করা এই জরিপে পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যানিটেশন থেকে শুরু করে শিশুশ্রম ও সহিংসতা— সব ক্ষেত্রেই এক অসম বাস্তবতা উঠে এসেছে।

জরিপে দেখা গেছে, ১২–৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮ শতাংশের রক্তে সীসার মাত্রা নিরাপদ সীমার ওপরে। ঢাকায় এই হার সবচেয়ে বেশি ৬৫ শতাংশ। সচ্ছল পরিবারেও সমস্যা তীব্র; দূষণে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় অর্ধেকই তুলনামূলক স্বচ্ছল পরিবারের। অন্তঃসত্ত্বা নারীদের মধ্যেও ৮ শতাংশের রক্তে সীসার অতিরিক্ত উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, শিশুমৃত্যু কমা কিংবা বাল্যবিবাহের হার কমার মতো সাফল্য থাকলেও সীসা–দূষণ ও শিশুশ্রম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। প্রতিটি শিশুর বেঁচে থাকা, শেখা ও বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত না হলে প্রকৃত অগ্রগতি আসবে না।

Exit mobile version