বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পর্যটননগরী মৌলভীবাজার। আর চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল। এই দুই শহরে পর্যটনের ভরা মৌসুমেও তুলনামূলক পর্যটক কম। অনুন্নত সড়ক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পর্যটকরা আকর্ষণ হারাচ্ছেন দেশের অন্যতম এ পর্যটনকেন্দ্রের প্রতি।

একসময় এ জায়গাটি দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমজমাট থাকলেও, বর্তমানে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেশ উদ্বেগের। এমনকি ২০ থেকে ৬০ শতাংশ ছাড় দিয়েও পর্যটক টানতে পারছে না হোটেলগুলো। ব্যবসা ধরে রাখতে তাই প্রতিমাসে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এ দুই উপজেলার সীমানায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, চোখজুড়ানো সবুজ চা বাগান, অপরূপ শোভা বেষ্টিত মাধবপুর লেক, দিগন্ত বিস্তৃত হাইল হাওর, শীতের পরিযায়ী পাখি দর্শনের অন্যতম স্থান বাইক্কা বিল মৎস্য অভয়ারণ্য প্রভৃতির অপূর্ব বৈচিত্র্যময় শোভা রয়েছে এ জেলায়। যেখানে ঋতু ভেদে এসব দর্শনীয় স্থানগুলো নেয় ভিন্ন ভিন্ন রূপ। সারা বছরই পর্যটকের আনাগোনা থাকে সবুজ শ্যামল প্রকৃতি ঘেরা নান্দনিক এসব জায়গায়।

কিন্তু কয়েক বছর ধরে চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে ধারাবাহিকভাবে কমছে পর্যটক। অনুন্নত সড়ক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নেই ভ্রমণপিপাসুদের ভিড়।

দর্শনার্থীদের মধ্যে একজন জানান, এখানকার গাড়িভাড়া কিছুটা বেশি, যা একটু কম হলে পর্যটকদের জন্য ভালো হত।

এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি বছর পর্যটক কমেছে ৮০ শতাংশ। যাতে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। প্রতিমাসে এই শিল্পে শুধু ব্যবসা ধরে রাখতেই গুনতে হচ্ছে কোটি টাকা।
এক হোটেল-রিসোর্ট ম্যানেজার জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বুকিংয়ের বাজে অবস্থা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিনিয়োগ করার পর এমন পরিস্থিতিতে তাদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট হাইওয়ের যে বাজে অবস্থা ও রেলের টিকিট স্বল্পতার কারণেও কমে গেছে পর্যটকের সংখ্যা।
ক্ষতির মুখে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ও চান্দের গাড়ির চালকরাও। আগে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায়।

ব্যবসায়ী ও চান্দের গাড়ির মালিক ও চালকরা জানান, আগের মতো পর্যটকরা আসেন না, আসলেও খুব অল্পসংখ্যক আসেন। এ কারণে কাঙ্ক্ষিত ব্যবসা করতে পারছেন না তারা। এতে বেশিরভাগ গাড়িচালকই বেকার বসে দিন পার করছেন বলেও জানান তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, পর্যটক টানতে এই খাতকে ঢেলে সাজানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান ট্যুরিজম বোর্ডের চেয়ারম্যান।

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, উৎসবের মধ্যে হারমনি ফেস্টিভাল, আমরা গ্র্যান্ড প্রোগ্রাম বলছি এটাকে। এটার বাইরেও আমাদের ফাগুয়া আছে, আমরা বসন্ত উৎসবের মতো প্রোগ্রাম করেছি। আমরা এখানে পূজা, ওয়ানগালা করবো আমরা এই ৭ তারিখে। এ প্রোগ্রামগুলোকে আমরা উপস্থাপন করছি।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক হাজেরা বিনতে সিরাজ বলেন, ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটক উন্নয়নে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে, যা অ্যাপ্রুভালের অপেক্ষায় আছে। এটা অ্যাপ্রুভ হয়ে গেলে আশা করা যায় বাংলাদেশের ট্যুরিজমের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যাবে।’

পর্যটন খাতের সব খরা কাটিয়ে আবারও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হবে মৌলভীবাজারের পর্যটন কেন্দ্র; চাঙা হবে পর্যটন খাত এমনটাই প্রত্যাশা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।

Leave A Reply

Exit mobile version