সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই সারা দেশে ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি করা হবে।
মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের পক্ষে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে দেশের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলায় তিন ধাপে ৫৬টি ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে ৬৯ হাজার ৩৮৭টি নারী-প্রধান পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে উপকারভোগীদের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই দেশব্যাপী সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করা হবে। এ শুমারিতে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরে প্রক্সি মিনস টেস্ট (PMT) স্কোরের ভিত্তিতে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা-১৮ আসনের অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক, অলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ী বস্তি এলাকার ১৯, ৮ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু অংশে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উত্তরা ও আশপাশের এলাকায় পরিবার শুমারি সম্পন্ন হওয়ার পর চলতি অর্থবছরেই সেখানে ব্যাপক পরিসরে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। শুমারি শেষে ওয়ার্ডভিত্তিক উপকারভোগীদের তালিকাও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের দপ্তরে সরবরাহ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিস্তার ঘটানো হচ্ছে।

