Friday, July 17, 2026

দীর্ঘ ১৫ বছর পর ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবার ঘরের মাঠেই অজিদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয় তুলে নিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। বৃষ্টি আইনে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জিতেছে ৮৬ রানের বড় ব্যবধানে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র ওয়ানডে জয় ছিল ২০০৫ সালে কার্ডিফে। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার আরও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘ ২১ বছর পর আবারও ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল টাইগাররা।

২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নাহিদ রানার গতির ঝড়ে ৯ উইকেটে ১৯১ রানেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৪২.২ ওভার শেষে বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে আর খেলা মাঠে গড়ায়নি। নবম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিনের লড়াকু ফিফটিতে ব্যবধান কিছুটা কমলেও বাংলাদেশের জয় ছিল একতরফাই। গ্রিন শেষ পর্যন্ত ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন।

এই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম নায়ক নাহিদ রানা। ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান একটি করে উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে দেন। দুই উইকেট হারানোর পর জশ ইংলিস ও কুপার কনোলি প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে ইংলিসকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা।

এরপর পুরো ম্যাচেই ছিল এই তরুণ পেসারের আধিপত্য। মোসাদ্দেক হোসেন কনোলিকে ফিরিয়ে দেওয়ার পরও অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু নাহিদের গতির সামনে দাঁড়াতে পারেননি অ্যালেক্স ক্যারি। ৪৭ রান করা এই ব্যাটারকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ জুটিও ভেঙে দেন তিনি। এরপর দ্রুত আরও দুটি উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ১৪০ রানেই ৮ উইকেট হারানোর অবস্থায় ঠেলে দেন নাহিদ।

১৫৬ রানে নবম উইকেট পতনের পর ক্যামেরন গ্রিন (৫২*) ও অ্যাডাম জাম্পা (৬*) শেষ দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও তা শুধুই ব্যবধান কমানোর কাজে এসেছে।

বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ৪১ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন। মোস্তাফিজুর রহমান ২৪ রানে নেন ২টি উইকেট। সমান সংখ্যক উইকেট পান মোসাদ্দেক হোসেনও, খরচ করেন ৩৭ রান। একটি উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। ব্যাট ও বল হাতে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন মোসাদ্দেক।

এর আগে চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। তার অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলতে গিয়ে অবশ্য কিছুটা ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছেন মোসাদ্দেক। অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডাররা তার চারটি ক্যাচ হাতছাড়া করেন। এর মধ্যে তিনবার জীবন পান এই ডানহাতি ব্যাটার।

মাত্র ৭০ বলে ৮৬ রানের ইনিংসে মোসাদ্দেক মারেন ৭টি চার ও ৩টি ছক্কা। পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে গড়েন ৭৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। পরে অষ্টম উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে যোগ করেন আরও ৪৫ রান।

বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন ওপেনার তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তানজিদ ৫৪ এবং শান্ত ৬৭ রানের কার্যকর দুটি ইনিংস খেলেন। তাদের অবদানেই বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা, যা শেষ পর্যন্ত এনে দেয় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক স্মরণীয় জয়।

Exit mobile version