শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫ মার্চ কালরাত ও জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধায় প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের উদ্যোগে আলোর মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিছিলটি জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন প্রধান বধ্যভূমিতে গিয়ে শেষ হয় এবং সেখানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এর আগে বিকেল ৫টায় গাইবান্ধা পৌর শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি, গণসংগীত ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচি সংগঠক মুরাদুজ্জামান রব্বানীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন রাজনীতিবিদ ওয়াজিউর রহমান রাফেল, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক জহুরুল কাইয়ুম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল হক শাহজাদা ও ওয়াশিকার ইকবাল মাজু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা মিহির ঘোষ, গাইবান্ধা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, জেলা প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি কবি দেবাশীষ দাশ দেবু, নারীনেত্রী ও সাংবাদিক রিক্তু প্রসাদ এবং শহীদ পরিবারের সদস্য প্রবীর চক্রবর্তীসহ অনেকে।

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক জহুরুল কাইয়ুম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বধ্যভূমি ও গণকবরগুলো শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষিত না হলে ইতিহাস বিকৃতির ঝুঁকি থেকে যায়।

সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা মিহির ঘোষ বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের বহু বধ্যভূমি এখনো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। এসব স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ করা এখন অনিবার্য জাতীয় দায়বদ্ধতা। তিনি গাইবান্ধা স্টেডিয়াম সংলগ্ন বধ্যভূমিতে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবি জানান।

Leave A Reply

Exit mobile version