বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়াজনিত কারণে থোড় হওয়া বোরো ক্ষেতে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (বিএলবি) বা পাতা ঝলসানো রোগ দেখা দিয়েছে। বোরো মৌসুমে ধানক্ষেতে বিভিন্ন কীটনাশক প্রয়োগে পচন ও মাজরা পোকার আক্রমণ কমলেও থোড় হওয়া ধানে বিএলবি রোগের কারণে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ধানক্ষেতে পাতা ঝলসানো রোগের চিত্র। থোড় হওয়া বোরো ধানক্ষেতের জায়গায় জায়গায় পাতা মরে গেছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেতের ফসল পুরোটাই আক্রান্ত হয়েছে। ধানের জমিগুলোতে প্রথমে খয়েরি রং ধারণ করে এবং আস্তে আস্তে সব স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। একপর্যায়ে ধানের পাতাগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। ফসল বাঁচাতে তারা বিভিন্ন ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার বোরো চাষ হয়েছে ২০ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার রোয়াইলবাড়ি, কান্দিঊড়া ও চিরাং ইউনিয়নে কিছু স্থানীয় জাতের ধানক্ষেতে বিএলবি বা পাতা ঝলসানো রোগ দেখা দিয়েছে। এবার বোরো মৌসুমে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়াজনিত কারণে ক্ষেতে পাতা ঝলসানো রোগ দেখা দিয়েছে। বাতাসের মাধ্যমে তা এক ক্ষেত থেকে অন্য ক্ষেতে বিস্তার লাভ করে। বোরো ধানে থোড় হওয়ার সময় এমন রোগে আক্রমণে ফলন তেমন একটা কম হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে আক্রান্ত ক্ষেতে সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ করতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার রোয়াইলবাড়ি এলাকার কৃষক হলুদ মিয়া বলেন, দুই বিঘা জমিতে এবার বোরো আবাদ করেছি। টানা বৃষ্টির পরই কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই কিছু জমির ধানের পাতাগুলো শুকিয়ে গেছে। এ জমিগুলোতে নিশ্চিত ফলন বিপর্যয় ঘটবে বলে জানান তিনি।

কৃষক হাবিব মিয়া বলেন, এবার পাতা ঝলসানো রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা দেখে অনেক কৃষকই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কৃষি কর্মীদের পরামর্শ পেয়ে সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ছত্রাকনাশক ব্যবহার করছেন তিনি।

কেন্দুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উজ্জ্বল সাহা বলেন, এই রোগকে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট বা সংক্ষেপে বিএলবি বলা হয়, যা Xanthomonas oryzae নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ছড়ায়। এই উপজেলায় প্রায় তিন হেক্টর জমিতে এই রোগ দেখা দিয়েছে। জমিতে এমওপি (পটাশ) সারের অভাবে এই রোগের লক্ষণ দেখা যায়। এই রোগে আক্রমণ হলে দিশেহারা না হয়ে জমি শুকনো রাখতে হবে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওষুধ স্প্রে করলে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছেন। এই রোগের কারণে বোরো ফলনে তেমন একটা প্রভাব পড়বে না।

Leave A Reply

Exit mobile version