Friday, July 17, 2026

টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে মিন সি লেভেল (এমএসএল) অনুযায়ী ১০০ দশমিক ৬০ ফুটে পৌঁছেছে। এর ইতিবাচক প্রভাবে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কাপ্তাই কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে ২০৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ উৎপাদন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে কেন্দ্রটির পাঁচটি উৎপাদন ইউনিটই সচল রয়েছে। এর মধ্যে ১, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে ৪০ মেগাওয়াট করে মোট ১৬০ মেগাওয়াট এবং ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে ২০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে এখনও হ্রদে বিপুল পরিমাণ পানি প্রবেশ করছে। ফলে জলাধারে পর্যাপ্ত পানি থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত ও পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকলে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
তারা বলেন, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্ষা মৌসুমে হ্রদে পর্যাপ্ত পানি থাকায় কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এদিকে, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটিসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে একই সময়ে কাপ্তাই হ্রদে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রায় সর্বোচ্চ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়তে পারে।

Exit mobile version