Friday, July 17, 2026

তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের মধ্যে একাধিক দফায় শান্তি আলোচনায় বসলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কখনও সরাসরি বৈঠক হয়নি। তবে এবার এমন একটি বৈঠকের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, খুব শিগগিরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হতে পারে। সম্ভাব্য ওই বৈঠকে শান্তিচুক্তিসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই বিজয়ী হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যেভাবেই হোক, আমরাই জিতছি—সামরিকভাবে হোক কিংবা কূটনৈতিকভাবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ‘কূটনৈতিক বিজয়’ মন্তব্যের ইঙ্গিত মূলত সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির দিকেই। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং মজুত পারমাণবিক উপাদান ধ্বংস করতে হবে। তবে তেহরান এ ধরনের শর্তকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর অযৌক্তিক চাপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে কোনও ধরনের চুক্তির আগে দেশটির বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে তেহরান। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের এসব দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেয়নি ওয়াশিংটন। বরং বিরতি-বিরতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে মোজতবা খামেনেই ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য মুখোমুখি বৈঠক চলমান অচলাবস্থা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তবে এর জন্য উভয় পক্ষকেই কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিতে হবে।
মোজতবা খামেনেইয়ের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “তাঁর সঙ্গে আমার দেখা হওয়া সম্ভব। এতে আমার কোনও আপত্তি নেই।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানে হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এরপর পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন স্বার্থ ও ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা অভিযান শুরু করে ইরান। সেই থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংঘাতের প্রভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ভারতসহ বহু দেশের অর্থনীতিতে।
বর্তমান সংকটের অবসান অনেকটাই নির্ভর করছে যুদ্ধ বন্ধ ও একটি কার্যকর শান্তিচুক্তির ওপর। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনেই সম্ভাব্য আলোচনার মাধ্যমে সেই পথ সুগম করতে পারেন কি না।
দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে তথ্যগুলো অবশ্যই পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন, বিশেষ করে আয়াতোল্লাহ আলী খামেনেইয়ের মৃত্যু, মোজতবা খামেনেইয়ের পদমর্যাদা এবং উল্লিখিত ঘটনাগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

Exit mobile version