শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। ইরান আজ ভোররাতে ইসরায়েল লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই আকস্মিক হামলার ফলে ইসরায়েলজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং জীবন রক্ষায় লাখো ইসরায়েলি সাধারণ নাগরিক ঘরবাড়ি ছেড়ে আন্ডারগ্রাউন্ড আশ্রয়কেন্দ্রে (বোম্ব শেল্টার) আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

হামলা চলাকালীন জেরুজালেম ও এর আশপাশের এলাকায় একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলের জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ইসরায়েলে হামলার সমান্তরালে সমুদ্রপথেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার গভীর রাতে কুয়েতের একটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা ‘ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ (ইউকেএমটিও) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে আসা ড্রোনের আঘাতে জাহাজটিতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ড্রোন হামলার যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।

ইউকেএমটিও এবং জাহাজের ক্রুদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কুয়েতি ট্যাংকারটি শেষমেশ সাগরে ডুবে গেছে। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার ফলে এর ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে সমুদ্রের নীল জলরাশি ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

জাহাজটি ডুবে গেলেও বড় ধরনের কোনো মানবিক বিপর্যয় ঘটেনি। জাহাজে থাকা ক্রুরা সময়মতো নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হয়েছেন এবং তারা সবাই বর্তমানে সুরক্ষিত আছেন। এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।

Leave A Reply

Exit mobile version