সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে জানিয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে একটি ফোনালাপে এমন আশ্বাস দিয়েছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে যে কোনও বিরোধ সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগকে সৌদি আরব সমর্থন করে।
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে যে কোনও বিরোধ সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগকে সৌদি আরব সমর্থন করে।
এর আগে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান বিন সালমানকে বলেছেন যে ইরান আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুদ্ধ প্রতিরোধে সহায়ক যেকোনও উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তব্যের পর ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেছেন, একটি নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তবে সেটি ব্যবহার করতে না হয় এমনটাই তিনি আশা করছেন।
আবার সোমবার রয়টার্সকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছে, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এতে মার্কিন বাহিনী রক্ষায় এবং ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সক্ষমতা বাড়বে।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে এসব যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন শুরু হয়। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অতীতেও উত্তেজনা বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধসরঞ্জাম পাঠিয়েছে, যা বেশিরভাগ সময়ই প্রতিরক্ষামূলক ছিল। তবে গত বছর জুনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি জড়ো করেছিল।

