বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬
৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যদি দ্রুত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলকূপ এবং প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে ভয়াবহ হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে দ্রুত কোনো সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে সামরিক পদক্ষেপ আরও কঠোর করা হবে। তিনি লিখেছেন, যদি অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করা না হয়, তবে আমরা ইরানের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও তেলকূপ বোমা মেরে উড়িয়ে দেব। বিশেষ করে খারগ দ্বীপকে পুরোপুরি ধ্বংস করে সেখানে আমাদের অবস্থান জানান দেব।

উল্লেখ্য, ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই সম্পন্ন হয় ক্ষুদ্র এই খারগ দ্বীপের মাধ্যমে। মাত্র ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই দ্বীপে রয়েছে বিশাল তেলের মজুত ট্যাংক, পাইপলাইন এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের সুবিধা। এখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৩ থেকে ১৬ লাখ ব্যারেল তেল চীনসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। ট্রাম্পের হুমকি কার্যকর হলে ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়ার পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন সেনারা প্রয়োজনে খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তিনি বলেন, “ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণ করাই আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা খারগ দ্বীপ দখল করতেও পারি, আবার নাও পারি আমাদের সামনে সব বিকল্পই খোলা আছে।” ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা আছে, যেখানে হামলার পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর।

রোববার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে আছি। তবে ইরানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা কঠিন; কারণ একদিকে আমরা আলোচনা করি, অন্যদিকে তাদের নিয়মিত উধাও করে দেওয়ার হুমকিও দিতে হয়।

সূত্র: ইউরো নিউজ

Leave A Reply

Exit mobile version