ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরাকে আরও এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, ইরানের ব্যবহৃত বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে ওই সেনার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর ফলে চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে ইরানের ড্রোন হামলার পর একটি অবিস্ফোরিত ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই এক মার্কিন সেনা নিহত হন। নতুন এই ঘটনার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এদিকে সোমবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা নবম রাতের মতো পরিচালিত এই অভিযানে রাত আড়াইটার দিকে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে হামলার তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এর আগে জর্ডানে ইরান-সমর্থিত হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। একই ঘটনায় নিখোঁজ এক মার্কিন সেনার দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে বলে জানানো হলেও, সেটি ওই সেনার কি না তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর দিকেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন ও কাতার তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে।


