ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের
মধ্যেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন প্রেআসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্কে এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর হরমুজকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন। পরে তিনি বলেন, ‘এটা সত্য।’
ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও আগামী সপ্তাহে তেহরানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনে তেহরান ভয় পাবে না। তাঁর দাবি, কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামরিক শক্তির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়।
এদিকে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিশ্বের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯০ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে মোতায়েন মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর নাবিকদের মানসিক চাপ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প বিষয়টি নাকচ করলেও মার্কিন গণমাধ্যমে কয়েকজন নাবিকের আত্মহত্যার চেষ্টার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগও অনিশ্চিত। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চললেও এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি। ফলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

