বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার বৃদ্ধি হলে ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স (সিএফআর)। নতুন এই প্রতিবেদনে আঞ্চলিক উত্তেজনার বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সম্প্রতি করা এক জরিপে এই মূল্যায়ন উঠে এসেছে। এতে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে।
সিএফআর উল্লেখ করেছে, যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কঙ্গো, গাজা ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংঘাত নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে উত্তেজনা এখনো উদ্বেগের কারণ। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তে পরিস্থিতি মনোযোগের দাবি রাখে।
প্রতিবেদনে স্মরণ করানো হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ৩ দিনের সামরিক সংঘাত ঘটে। ৬ মে রাতে ভারতীয় সেনা ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাকিস্তানির ভূখণ্ডে অভিযান চালায়, যার দাবি করা হয় ১০০-এর বেশি সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। পাল্টা অভিযানে ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত পাকিস্তান ড্রোন হামলা চালিয়ে ভারতের সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষতি করে। শেষ পর্যন্ত ১০ মে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তেও উত্তেজনা বাড়ছে। অক্টোবর মাসে কাবুলে টিটিপি প্রধান নুর ওয়ালি মেহসুদকে লক্ষ্য করে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সিএফআর সতর্ক করেছেন, যদি আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বাড়ে, তবে ২০২৬ সালে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের মধ্যেও ‘মাঝারি মাত্রার’ সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
গবেষকরা মনে করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। পরিস্থিতি যদি এমনই থাকে, তবে সীমান্তের স্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাস মোকাবিলায় কঠোর পরিকল্পনার প্রয়োজন পড়বে।

Leave A Reply

Exit mobile version