বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি থেকে ইরানের পাতা নৌ-মাইন সম্পূর্ণ অপসারণে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের (পেন্টাগন) বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট বুধবার (২২ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে।
ওয়াশিংটন পোস্ট-এর খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের কাছে দেওয়া ওই ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ইরান প্রণালি ও এর আশপাশে দৈনিক ২০টির বেশি মাইন স্থাপন করে থাকতে পারে। এসব মাইনের কিছু নৌকা থেকে ফেলা হয়েছে, আবার কিছু জিপিএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা শনাক্ত করা কঠিন।

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব তেল পরিবহনের একটি প্রধান পথ; যুদ্ধ শুরুর আগে এখানে দিয়ে বিশ্বে ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ যেত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবরোধের কারণে এই রুটে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ০২ ডলার, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার।

এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন এবং অর্ধেকের বেশি ভোটার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বড় অংশে দায়ী করছেন।

তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এই প্রতিবেদনকে ভুল বলে দাবি করেছেন। তার ভাষায়, মিথ্যা দাবিগুলো প্রকাশ করে তারা সত্যের চেয়ে নিজেদের এজেন্ডাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

এদিকে সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর মার্চ মাস থেকেই ইরান প্রণালিতে মাইন বসানো শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, ইরানের কাছে ৫,০০০-এর বেশি নৌ-মাইন রয়েছে, যা প্রণালির অগভীর পানি ও সংকীর্ণ পথের কারণে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

Leave A Reply

Exit mobile version