Friday, July 17, 2026

ওয়াশিংটন ও তেহরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে তা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হওয়া কিংবা বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ না করলে ইরানে বারবার হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের নৌ উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং তিনটি লিটোরাল কমব্যাট জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেন, ‘ট্রাম্প নিয়মিতই বলেন যে তিনি রণতরী এনেছেন। এসব দেখে ইরানি জাতি ভয় পায় না। ইরানি জনগণ এ হুমকিতে বিচলিত হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ইরান হামলার সূচনাকারী নয় এবং কোনো দেশকে আক্রমণ করতে চায় না। তবে কেউ আক্রমণ কিংবা হয়রানি করলে ইরানি জাতি তার বিরুদ্ধে শক্ত আঘাত হানবে।

অবশ্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনায় কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো রয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা এমন ‘ন্যায্য’ আলোচনার জন্য প্রস্তুত, যা তাদের প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে নয়।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির জন্য সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে এ বিক্ষোভ।

দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৭১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করা হয়েছে।

Exit mobile version