Monday, August 31, 2026

সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির পদে স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে নিয়োগের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। নিয়মিত কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় আট মাস আগেই বর্তমান সভাপতিকে সরিয়ে নতুন সভাপতি নিয়োগের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিটের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি (সংশোধিত) সংবিধি, ২০১৯-এর ৭ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট মনোনয়ন পরিবর্তনের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উল মতিন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার নূর উল মতিন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের জন্য মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল।
কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় আট মাস আগেই গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের সই করা এক আদেশে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের অগোচরে হঠাৎ সভাপতি পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।
পরে ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানের পক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও কলেজ পরিদর্শকের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। তবে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
রিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কলেজ পরিদর্শক এবং সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, গভর্নিং বডির বর্তমান কমিটির মেয়াদ থাকা অবস্থায় কোনো কারণ ব্যাখ্যা না করে সভাপতির পরিবর্তন করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। একই সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি (সংশোধিত) সংবিধি, ২০১৯-এর ৭ ধারার বৈধতাও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, ওই ধারার মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে গভর্নিং বডির সভাপতির মনোনয়ন পরিবর্তনের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি (সংশোধিত) সংবিধি, ২০১৯-এর ৭ ধারা এবং ২৩ জুলাই জারি করা সভাপতির মনোনয়ন পরিবর্তনের আদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
একই সঙ্গে ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের সই করা মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পরিবর্তনের আদেশের কার্যকারিতা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

Exit mobile version