বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোসহ তার স্ত্রীকে আটক করেছে ও তাদের দেশ থেকে সরিয়ে নিয়েছে। শনিবার নিজ মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বিবৃতিতে এ তথ্য জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮৯ সালে পানামায় তৎকালীন নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে অপসারণের পর এটিই কোনো লাতিন আমেরিকান দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টিভিতে বলেন, সরকার জানে না প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী বর্তমানে কোথায় আছেন। তিনি বলেন, আমরা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেসের অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানি না। আমরা তাদের জীবিত থাকার প্রমাণ চাই।

এদিকে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই শনিবার দিনগত ২টার দিকে (স্থানীয় সময়) রাজধানী কারাকাসের আশপাশে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন স্থানে ভবনে আগুন জ্বলছে।
একই সঙ্গে কারাকাসের দক্ষিণাঞ্চলে, একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া যায়। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, রাজধানীর বাইরে মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা প্রদেশেও হামলা চালানো হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘সামরিক আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সরকারের দ্বারা ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ড ও জনগণের বিরুদ্ধে চালানো এই ভয়াবহ সামরিক আগ্রাসনকে প্রত্যাখ্যান, নিন্দা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’
মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও ফক্স নিউজ অজ্ঞাতনামা কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, কারাকাসে চালানো একাধিক হামলার পেছনে সরাসরি মার্কিন সেনাবাহিনী জড়িত ছিল।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় স্থল হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে মাদক চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা বলে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগরে ব্যাপক নৌ ও বিমান শক্তি মোতায়েন করে, যার মধ্যে রয়েছে দেশটির সবচেয়ে আধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড এবং আরও কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ।

গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলাগামী নৌযানে একের পর এক হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব নৌযান মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে তেল অবরোধের অংশ হিসেবে সমুদ্রে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক কার্টেল পরিচালনার অভিযোগ এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘মাদুরোর জন্য সরে দাঁড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে’ এবং সতর্ক করে দেন যে ভেনেজুয়েলা নেতার ‘দিন ফুরিয়ে আসছে।’ তবে মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে উৎখাত করতে চাইছে মূলত ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের কারণে। তার দাবি, ভেনেজুয়েলার কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে।

Leave A Reply

Exit mobile version