Monday, August 31, 2026

রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ছবিতে দেখা যায়, হাজারো শিশুর ভিড়ে স্কুলড্রেস পরা এক কিশোর হাসিমুখে দুই হাত বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে। আবেগঘন সেই মুহূর্তটি ছুঁয়ে যায় অসংখ্য মানুষকে।
ছবির সেই কিশোরের নাম তাহসিন আব্দুল্লাহ। তবে তার হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর বেদনার গল্প।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনায় তাহসিন তার বড় বোন তাসনিয়াকে হারায়। একই স্কুলে পড়লেও সেদিন তারা ছিল ভিন্ন ভবনে। তখন তাহসিন ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং তাসনিয়া অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। দুর্ঘটনায় তাসনিয়াদের ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিকট শব্দ শুনে বোনকে খুঁজতে ছুটে যায় তাহসিন। আহতদের জন্য স্যালাইন ও পানির প্রয়োজন—এমন কথা শুনে ছোট্ট দুই হাতে স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে অপেক্ষা করেছিল সে। কিন্তু আর ফিরে আসেনি তার প্রিয় বোন।
পরিবার জানায়, ওই ঘটনার পর থেকে অনেকটাই বদলে যায় তাহসিন। এক হিলিং সেশনে সে লিখেছিল, “আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সে মারা গেছে। ওকে আমি অনেক অনেক মিস করি। ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।”
বোনকে হারানোর পর তার মুখে আগের মতো হাসি দেখা যেত না। তবে ২৭ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রদক্ষিণের সময় কাছে আসতেই আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে সে। সেই মুহূর্তের ছবিই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
ছবিটি দেখার পর প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, হাসিমাখা সেই শিশুটির জীবনে রয়েছে এক মর্মস্পর্শী অধ্যায়। এরপর তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাহসিন। বর্তমানে সে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে। পরিবারের আরেক সদস্য তার ছোট বোন, যে নার্সারিতে পড়ে।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে তাহসিন জানায়, বড় হয়ে সে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায়। পাশাপাশি এমন কিছু করতে চায়, যা মানুষের উপকারে আসবে এবং মানুষের কাছে ইতিবাচকভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তার স্বপ্নের প্রশংসা করে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা, নিয়মিত খেলাধুলা এবং লক্ষ্য অর্জনে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন।
আলাপচারিতায় তাহসিন জানায়, তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ফুটবল। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে নিজের স্বাক্ষর করা একটি বাস্কেটবল ও একটি ড্রোনসেট উপহার দেন।
সাক্ষাৎ শেষে তাহসিন জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পেরে সে ভীষণ আনন্দিত। এমন সুযোগ পাবে, তা কখনো ভাবেনি। স্কুলে গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে এই স্মরণীয় অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার জন্যও সে মুখিয়ে রয়েছে।
তাহসিনের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে পরিবারের একজন সদস্যের মতো আন্তরিকভাবে কথা বলেছেন। তাই তার কোনো অস্বস্তি হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখার সুযোগও হয় তার। সেখানে রাখা বিভিন্ন গাড়ি ও জাহাজের রেপ্লিকা তার খুব ভালো লেগেছে। বাবার মোবাইল ফোনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি সেলফিও তোলে সে।
এ সময় মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো তাহসিনের বাবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম, সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্যসচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন উপস্থিত ছিলেন।
প্রয়োজনে এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত করে প্রথম পাতার উপযোগী বা অনলাইন নিউজ পোর্টালের স্টাইলে সাজিয়েও দিতে পারি।

Exit mobile version