সোমবার, মার্চ ২, ২০২৬
১৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি উপদেষ্টার বক্তব্য প্রত্যাহার ও বৈষম্যমুক্ত নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবিতে কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। এরপর আগামী ৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ করবেন কর্মচারীরা। দাবি আদায় না হলে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী টানা ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সংগঠনের সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিবৃতিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের একটি মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। কর্মচারীদের অভিযোগ, উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন যে বর্তমান সরকার পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং কেবল আন্দোলন স্তিমিত রাখতেই পে কমিশন গঠন করা হয়েছিল। উপদেষ্টার এমন বক্তব্যকে নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীদের সাথে ‘তামাশা’ ও ‘রসিকা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন কর্মচারী নেতারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বিগত ১১ বছর ফ্যাসিবাদী সরকার কর্মচারীদের ন্যায্য পে স্কেল থেকে বঞ্চিত রেখেছে। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে কর্মচারীরা চরম দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নবম পে কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট সরকারের হাতে থাকা এবং বাজেটে অর্থের সংস্থান থাকা সত্ত্বেও গেজেট প্রকাশে গড়িমসি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উপদেষ্টার এই উস্কানিমূলক বক্তব্য তুষের আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে।
কর্মচারী নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে জ্বালানি উপদেষ্টার এই ‘হঠকারী’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বক্তব্য প্রত্যাহার করে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার শর্তে নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রধান উপদেষ্টা দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবহেলিত কর্মচারীদের মুখে হাসি ফোটাতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলেও বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave A Reply

Exit mobile version