মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গ্রামের গণকাপাড়া এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাকাকরণ কাজে ১০ মিটার জায়গার বেড়া দিয়ে রাস্তা আটকে দেওয়ার কারণে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ থমকে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাতটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নারান্দিয়া ইউনিয়ন পাইলাটি গ্রামের ৪.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটির ২৭০০ মিটার পাকাকরণের কাজ বর্তমানে চলমান ছিল, রাস্তার বাকি অংশ আগেই সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ৪০০ টাকা। ময়মনসিংহের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘প্রসাদ এন্টারপ্রাইজ’ মূল কাজটি পেয়েও স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে মেসার্স লিমন লিটন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী লিটন মিয়ার তদারকিতে কাজটি চলছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গণকাপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন রাস্তায় বেড়া ও গাছের গুড়ি ফেলে রাখা হয়েছে।
জানা যায়, নারান্দিয়া ইউনিয়নের পাইলাটি গণকাপাড়া এলাকায় রাস্তা নির্মাণে বাধা দিয়েছেন মৃত ইমান আলীর তিন ছেলে মুমরুজ আলী, মফিজ মিয়া ও মজিবর মিয়া। তারা তাদের মালিকানাধীন মাত্র ১০ মিটার জায়গা দিয়ে রাস্তা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সেখানে বেড়া ও গাছের গুড়ি ফেলে বাঁধ সৃষ্টি করেছেন। এর ফলে রাস্তার কাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এই রাস্তাটি চানখলা, বাইক গণকাপাড়া, ভূগী, পাইলাটি, ইয়ারন ও নারান্দিয়া সহ আশেপাশের ৭টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ। নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে প্রবেশের জন্য এটিই সবচেয়ে সহজ মাধ্যম। রাস্তার পাশেই রয়েছে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “পাকা করার আগে এই অংশ দিয়েই মাটির রাস্তা ছিল। রাস্তার স্বার্থে আমাদের অনেকের জায়গা গেছে, আমরা বাধা দেইনি। কিন্তু সামান্য ১০ মিটার জায়গার জন্য মুমরুজ আলীরা পুরো উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে রাস্তায় বাধা দেওয়া মুমরুজ আলী জানিয়েছেন, “পাশেই হালটের জায়গা থাকা সত্ত্বেও আমার রেকর্ডকৃত জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছিল, এজন্য আমি বাধা প্রদান করেছি।”

তদারককারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিমন লিটন ট্রেডার্সের ঠিকাদার লিটন মিয়া জানিয়েছেন, এলজিআরডি অফিসের সার্ভে চলাকালীন তিনি ছিলেন এবং পূর্বে মাটির পথের ওপরেই কাজ করছিলেন। প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তায় কাজের সময় কোনো বাধার সম্মুখীন হননি। তিনি বেড তৈরি ও বালু ফিটিংসহ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু হঠাৎ গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাস্তায় বেড়া ও গাছের গুড়ি দিয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

Leave A Reply

Exit mobile version