বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাগলা মসজিদের সিন্দুকে মিলেছে ৩৫ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সের টাকা গণনা চলছে

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়েছে। এতে মিলেছে ৩৫ বস্তা টাকা। সেইসঙ্গে পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও। এখন চলছে টাকা গণনার কাজ। গণনা শেষে টাকার পরিমাণ বলা যাবে। ধারণা করা হচ্ছে, এবার ১৫ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে টাকার পরিমাণ।

৩ মাস ২৭ দিন পর শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এ দানবাক্সগুলো খুলে ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। সকালে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার উপস্থিতিতে এ দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত ও পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুল হাসান মারুফসহ বিপুল সংখ্যক সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।

প্রথমে টাকাগুলো লোহার সিন্ধুক থেকে বস্তায় ভরা হয়। পরে মসজিদে দ্বিতীয় তলায় নেয়ার পর সেখান থেকে এবার রেকর্ড ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এরপর শুরু হয় গণনার কাজ। এখন চলছে ওই টাকা গণনার কাজ। এই কাজে অংশ নিয়েছে মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মাচারীসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের একটি দল। গণনা শেষে টাকার পরিমাণ বলা যাবে।

এর আগে, গত ৩০ আগস্ট সিন্দুকগুলো খোলা হয়েছিল। তখন ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া যায়, আর গণনা শেষে তখন রেকর্ড ভেঙে এক অভাবনীয় অঙ্ক—১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা সংগ্রহ হয়েছিল! এ ছাড়া, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে। এবার অনেকেই আশা করছেন দানের পরিমাণ আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে কোটি টাকার মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে।
দানের টাকা থেকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ আকর্ষণীয় একটি ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। এতে অর্ধলাখ মুসল্লি একত্রে নামাজ আদায় করতে পারবেন। একইসঙ্গে পাঁচ হাজার মহিলারও আলাদাভাবে নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। সেটির পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা যাচাই-বাছাই করে ডিজাইন ও নকশা চূড়ান্ত করে দিলেই দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে। এতে প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। কাজ শুরু হলে টাকা বাড়তেও পারে।

জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, মসজিদের দ্বিতীয় তলায় টাকা গণনার কাজ শুরু হয়েছে। সাধারণত ৩ মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থতির কারণে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এবার আশা করা হচ্ছে, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হবে।

Leave A Reply

Exit mobile version